‘ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট’ নীতিতে জোর কেন্দ্রের
নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছে বিজেপি সরকার। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী এবার পশ্চিমবঙ্গেও কঠোরভাবে কার্যকর হবে অনুপ্রবেশবিরোধী আইন।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর আওতার বাইরে থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে এবং পরবর্তী পর্যায়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF)-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। বিএসএফ তাঁদের সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।
কারা ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে গণ্য?
কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচিত হবেন—
বৈধ পাসপোর্ট বা নথি ছাড়া ভারতে প্রবেশকারী বিদেশি নাগরিক।
বৈধ নথি নিয়ে এলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর দেশে না ফেরা বিদেশিরা।
এই ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে অনুপ্রবেশকারীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ, আটক কিংবা দেশছাড়া করা যাবে।
কী ভাবে চলবে চিহ্নিতকরণ ও ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া?
কেন্দ্রের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে তিন ধাপে কাজ হবে—
ডিটেক্ট (চিহ্নিতকরণ)
সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করবে পুলিশ ও প্রশাসন
বায়োমেট্রিক তথ্য ও ডেমোগ্রাফিক ডেটা সংগ্রহ করা হবে
তথ্য আপলোড হবে কেন্দ্রীয় “ফরেনার্স আইডেন্টিফিকেশন পোর্টাল”-এ
ডিটেইন (আটক রাখা)
প্রতিটি জেলায় তৈরি হবে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা বিশেষ শিবির
সেখানে সন্দেহভাজনদের রাখা হবে তদন্ত চলাকালীন
কেউ ভারতীয় নাগরিক দাবি করলে ৩০ দিনের মধ্যে তথ্য যাচাই হবে
ডিপোর্ট (দেশে ফেরত পাঠানো)
তদন্তে বিদেশি পরিচয় নিশ্চিত হলে বিএসএফ বা অসম রাইফেলসের হাতে তুলে দেওয়া হবে
পরে তাঁদের বাংলাদেশ বা মায়ানমারের সীমান্তে ফেরত পাঠানো হবে
ভবিষ্যতে ভারতে প্রবেশ রুখতে তাঁদের নাম ‘ব্ল্যাকলিস্ট’-এ তোলা হবে
‘ডিটেনশন সেন্টার’ নিয়ে কী বলছে কেন্দ্র?
কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের রাখার জন্য রাজ্য সরকারকে জেলা ভিত্তিক ‘হোল্ডিং সেন্টার’ গড়তে হবে। সেখানে—
নিরাপত্তার মধ্যে আটক রাখা হবে সন্দেহভাজনদের
জিজ্ঞাসাবাদ ও নথি যাচাই চলবে
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বাইরে যেতে দেওয়া হবে নাএই শিবির তৈরির সমস্ত খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে। যদিও অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার খরচ পরে কেন্দ্র বহন করতে পারে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।
মাসিক রিপোর্ট বাধ্যতামূলকস্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী—
কতজনকে আটক করা হল
কতজনকে ফেরত পাঠানো হল
কার হাতে হস্তান্তর করা হল—এই সমস্ত তথ্য প্রতি মাসে কেন্দ্রকে জানাতে হবে। পাশাপাশি বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসেও তথ্য পাঠানো হবে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য।
প্রচার এড়ানোর নির্দেশ:
কেন্দ্র জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রচার বা উত্তেজনা এড়াতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি আইন মেনে এবং প্রশাসনিক গোপনীয়তা বজায় রেখেই সম্পন্ন করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
