নিজস্ব সংবাদদাতা: ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া লেখক ও বিনিয়োগকারী রবার্ট কিয়োসাকি বিপুল ঋণের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে তাঁর মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ঋণ ব্যবহারের কৌশল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কথা বলে আসছেন কিয়োসাকি। এবার নিজের আর্থিক অবস্থার প্রসঙ্গেও সেই একই নীতির কথা সামনে এনেছেন তিনি।
সম্প্রতি ‘গেট রিচ এডুকেশন’ পডকাস্টে দেওয়া এক বক্তব্যে কিয়োসাকি জানান, তাঁর প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণ রয়েছে। তবে এই ঋণকে তিনি প্রচলিত অর্থে ব্যক্তিগত দায় হিসেবে দেখছেন না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আয় তৈরি করতে পারে এমন সম্পদ কেনার ক্ষেত্রেই তিনি ঋণ ব্যবহার করেন। অর্থাৎ তাঁর কাছে ঋণ নেওয়ার বিষয়টির সঙ্গে সম্পদ তৈরির কৌশল সরাসরি যুক্ত।
কিয়োসাকির বক্তব্য, অন্যের ঋণ নেওয়ার পদ্ধতি অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। বরং আয়-উৎপাদনকারী সম্পদ কেনার জন্য ঋণ ব্যবহার করা যেতে পারে। তাঁর মতে, সম্পদ কেনার ক্ষেত্রে ঋণ নেওয়া হলে সেই সম্পদ থেকেই ঋণ পরিশোধের অর্থ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এই প্রসঙ্গে তিনি নিজের বিনিয়োগের ধরন সম্পর্কেও কথা বলেছেন। কিয়োসাকির দাবি, তাঁর ঋণের বড় অংশই এমন বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত, যা সম্পদ ও আয় তৈরির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী ও ব্যবসায়িক অংশীদার কিম কিয়োসাকির ব্যক্তিগত ঋণ তাঁর এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।
কিয়োসাকির বিনিয়োগ কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধিকে কাজে লাগানো। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্পত্তির বাজারমূল্য বাড়লে সেই সম্পদের বিপরীতে নতুন করে ঋণ নেওয়া সম্ভব হতে পারে। সেই অর্থ আবার নতুন সম্পদ কেনার কাজে ব্যবহার করা যায়। এভাবে ঋণকে তিনি বিনিয়োগের একটি হাতিয়ার হিসেবে দেখেন।
তবে এই কৌশলের ঝুঁকির কথাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সম্পত্তির বাজারদর কমে গেলে কিংবা নগদ অর্থের প্রবাহে চাপ তৈরি হলে ঋণের বোঝা সামলানো কঠিন হতে পারে। কিয়োসাকির বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ‘লিমিটেড লায়াবিলিটি কোম্পানি’ বা এলএলসির মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হয়। তাঁর মতে, এ ধরনের কাঠামোর মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পদকে ব্যবসায়িক ঝুঁকি থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করা যায়।
কিয়োসাকি ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পান। বইটির কোটি কোটি কপি বিক্রি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বইটিতে আয়, সম্পদ, বিনিয়োগ এবং অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাঁর নিজস্ব ধারণা তুলে ধরা হয়েছিল। বর্তমানে তাঁর বিপুল ঋণের দাবি সেই আর্থিক দর্শনকে ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
ঋণকে সম্পদ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হলেও বাজারের ওঠানামা, সুদের চাপ এবং নগদ অর্থের প্রবাহের ঝুঁকি থেকেই যায়। ফলে কিয়োসাকির কৌশল মূলত তাঁর নিজের বিনিয়োগ দর্শনের অংশ—তা অনুসরণ করার আগে সংশ্লিষ্ট আর্থিক ঝুঁকি বিবেচনা করা জরুরি।
