অভিযোগ না নিয়ে তাঁকে থানাতেই সিসি ক্যামেরা নেই সেই রুমে ডেকে নিয়ে ডোমকল থানার এক পুলিশ অফিসার উজ্জ্বল হালদার বেধড়ক মারধর করেন ।
সংবাদ অনুক্ষণ অনলাইন, ডোমকল: আইআইটি খড়্গপুর এর প্রাক্তন ছাত্র ডক্টর ইমন কল্যাণ থানায় অভিযোগ করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আক্রান্ত। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের ডোমকলের। অভিযোগ, ইমন কল্যাণ তাঁর ব্যাঙ্কের পাশবুক হারানোর জন্য ডোমকল থানায় ডায়েরি করতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ না নিয়ে তাঁকে থানাতেই সিসি ক্যামেরা নেই সেই রুমে ডেকে নিয়ে ডোমকল থানার এক পুলিশ অফিসার উজ্জ্বল হালদার বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ তাঁর।ওই গবেষকের অভিযোগ, অফিসার ইনচার্জ তাঁর অভিযোগ না নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক থেকে স্ট্যাম্প মেরে আনতে বলেন।তখন ইমন কল্যাণ জানান, তাঁর ব্যাঙ্কের ওই শাখা খড়্গপুরে। কারণ, পড়াশোনার সময় সেখানে ওই অ্যাকাউন্ট করা হয়েছিল এই মুহুর্তে সেখান থেকে পাস বইয়ের জেরক্সের উপর সিল মেরে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। তখন ওই অফিসার অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেন।তখন ইমন কল্যাণ বলেন অভিযোগ নেওয়া হলে খুব উপকার হয় । তখন সেই কর্তব্যরত অফিসার বলে বেশি জোরে কথা বলছিস তুই। ফলে এই নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডাও শুরু হয়।সেসময় থানার এসআই উজ্জ্বল বিশ্বাস সেখানে যান। তিনি ওই কাগজপত্র নিয়ে তাঁর সঙ্গে গবেষককে যেতে বলেন। থানারই একটি ঘরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর দরজা বন্ধ করে বাবা-মা তুলে অসভ্য ভাষায় গালাগালি, বেতের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর। আক্রান্ত গবেষক নিজের শিক্ষকতা যোগ্যতা ও পেশার কথাও বলেন ওই এসআইয়ের কাছে। কিন্তু তিনি গুরুত্ব দেননি। প্রবল মারধরে তিনি কাহিল হয়ে যান। পরে তাঁকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁর হাত-পা ও শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের দাগ দেখা গিয়েছে। ঘটনার পরে তিনি পুলিশের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ জানিয়েছেন। ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ বলেন, “ডোমকল থানার ব্যাপারে একটা অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে।”ওই ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে ডোমকল জুড়ে। ডোমকলের বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি জানার পর আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছি। অন্য অনেক জায়গায় এই ধরনের ঘটনা শুনে ভাবতাম পুলিশ এমন করতে পারে না। কিন্তু খোদ ডোমকলেই এমন ঘটনা? লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে। নিশ্চয় ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনায় উপযুক্ত ব্যাবস্থা নেওয়ার কথা বলব পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে।”